
অনলাইন ডেক্স:
বাংলাদেশে খুব শিগগিরই প্রণীত হতে যাচ্ছে ‘ভূমি ব্যবহার স্বত্ব আইন’ এবং ‘ভূমি অপরাধ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’। এই নতুন আইনের মূল লক্ষ্য হলো জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি, প্রতারণা ও অবৈধ দখল রোধ করা। নতুন আইন অনুসারে ৭ ধরনের দলিল বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
১. রেজিস্ট্রিবিহীন দলিল
যেসব দলিলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসারের বৈধ সিল বা স্বাক্ষর নেই এবং যা রেজিস্ট্রি হয়নি, সেই দলিল বাতিল হবে। উদাহরণস্বরূপ, বিক্রয় বা হেবা দলিল রেজিস্ট্রি না করলে আইনগত মূল্য থাকে না।
২. ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত নিয়মাবলী
বায়না দলিল: জমি ক্রয়ের আগের বায়না দলিল ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি করতে হবে।
বিক্রয় দলিল: রেজিস্ট্রি না হলে আইনগত স্বীকৃতি থাকবে না।
হেবা, দান বা বন্ধক দলিল: এগুলোও রেজিস্ট্রি করতে হবে।
উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বাটোয়ারা বা আপোস বণ্টননামা দলিলও রেজিস্ট্রির আওতায় আসবে।
৩. রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
বিক্রয়কৃত জমির পূর্ণ বিবরণ।
দলিলে দাতা ও গ্রহণকারীর পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানা।
সাম্প্রতিক রঙিন ছবি।
জমির অতীত ২৫ বছরের মালিকানা ও ক্রয়-বিক্রয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য, চারদিকের সীমানা ও নকশা।
হলফনামা যে জমি বিক্রয় করা হয়েছে এবং অন্য কেউ বিক্রি করেনি।
জমির পর্চাগুলোতে ধারাবাহিক মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য।
৪. সরকারি ফি ও কর
দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি আইনের আওতায় নির্ধারিত।
বিক্রেতা দেবে ভ্যাট ও উৎসে কর; অন্য কর ক্রেতার দায়িত্বে।
আয়কর আইনের মাধ্যমে কর নির্ধারণ হবে বিক্রেতার আয়ের ওপর।
৫. জাল দলিল ও খাস জমির দখল
সাব-রেজিস্ট্রি বা ভূমি অফিসের নথি পুড়ে গেলে জাল দলিল বা খতিয়ান তৈরি করা হলে তা বাতিল হবে।
অন্যের জমি দখল বা প্রতারণার মাধ্যমে হেবা/বিক্রয় করলে সেই দলিল কার্যকর হবে না।
নতুন আইন অনুযায়ী জালিয়াতি বা বেআইনি দখলের জন্য দোষীদের ফৌজদারি শাস্তি দেওয়া হবে।
৬. বিশেষ দলিলের অবস্থা
বায়নাপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, উইল, ওছিয়ত, চুক্তিপত্র—সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল নয় এমন দলিলের বাতিলকরণ প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে।
হেবা, দানপত্র, হেবাবিল, ঘোষণাপত্র ইত্যাদি রেজিস্ট্রি অফিসে ‘বাতিলকরণ দলিল’ দিয়ে বাতিল করা যায় না; প্রয়োজন হলে আদালতের মাধ্যমে বাতিল করতে হবে।
৭. শাস্তি ও আইনের প্রভাব
বাতিল দলিল তৈরি বা ব্যবহার করলে শাস্তি: ৩ মাস থেকে ৫ বছর কারাদ- এবং ১০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা অর্থদ-।
নতুন আইন ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে, যাতে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতি রোধ করা যায়।